বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস: ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করছে বিমান

Oct 7, 2026 - 12:29
 0  9
বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস: ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করছে বিমান
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পর এবার ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের (Airbus) কাছ থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে যাচ্ছে সরকার। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আজ বুধবার ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। তবে এই ১০টি উড়োজাহাজ কেনাকাটায় মোট কত অর্থ খরচ হবে কিংবা এগুলো কবে নাগাদ বিমানের বহরে যুক্ত হবে— সে বিষয়ে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কতৃপক্ষ।

বর্তমানে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিদ্যমান ১৯টি উড়োজাহাজের সবই আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির তৈরি। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পাদিত চুক্তির মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহরে মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪টিতে। যদিও সরকারের ‘ফ্লিট এক্সপ্যানশন প্ল্যান ২০২৬-২০৩৫’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে সংস্থাটায় ৪৭টি উড়োজাহাজের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এত বিশাল সংখ্যক উড়োজাহাজ ক্রয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে উড্ডয়ন খাতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পশ্চিমা চাপ সামলাতেই এসব কেনাকাটা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উলে্লখ্য, ২০২৩ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ঢাকা সফরের সময় থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এয়ারবাস বিক্রির জোর তৎপরতা শুরু হয়। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও কূটনৈতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে বোয়িং কেনার প্রক্রিয়া গতি পায়। ইতিপূর্বে গত এপ্রিলে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ২.৭ বিলিয়ন ডলারে ১১টি বোয়িং ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ ক্রয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা। বাণিজ্য ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক ডিপ্লোম্যাসি বজায় রাখতে এবার ইউরোপীয় এয়ারবাসের প্রস্তাবও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করল সরকার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow