চট্টগ্রাম কারাগারে দেদারসে মাদক ব্যবসা: ৮ মাসে জব্দ ১০ হাজার ইয়াবা
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের মধ্যে অবাধে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চলার খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে কারাগারের মূল ফটক ও ভেতরের এলাকা থেকে ১০ হাজার ৪৯৬ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। হাতেনাতে ধরা পড়েছেন দুই নারীসহ মোট ২৬ জন বন্দি এবং তৌকির হাসান নামে এক কারারক্ষী। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ২২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে—প্রতি পিস ৬০০ টাকায় কারাগারের ভেতরে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা।
গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কারারক্ষীদের একটি অংশের যোগসাজশে ও শিথিল তল্লাশির সুযোগে আসামিরা কারাগারের ভেতর এসব মাদক নিয়ে ঢুকছিল। আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরা বন্দিদের পেটে গিলে, মলদ্বারে লুকিয়ে, জুতা, কলা ও শুকনা খাবারের ভেতর কৌশলে কিংবা দেওয়ালের ওপর দিয়ে প্লাস্টিকের বোতলে করে ইয়াবা ভেতরে পাঠানো হচ্ছিল। তাছাড়া প্রায় সাত বছর ধরে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা লাগেজে স্ক্যানার মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় সনাতন পদ্ধতিতে হাত দিয়ে তল্লাশি চালানোই ছিল এর মূল কারণ।
পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটায় স্থানীয় কারারক্ষীদের সরিয়ে ঢাকা থেকে ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ তল্লাশি টিমকে চট্টগ্রাম কারা ফটকে মোতায়েন করা হয়েছে। নতুন এই টিম দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালত ফেরত আসামিদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় পোশাক পরিবর্তন করিয়ে নিখুঁতভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সিনিয়র জেল সুপার ও চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদার ও ঢাকার বিশেষ টিম মোতায়েনের পর কারা ফটক দিয়ে মাদকের অবৈধ প্রবেশ আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে।
What's Your Reaction?