২০৩০ সালের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বৃহৎ উদ্যোগ

Sep 16, 2026 - 12:05
 0  3
২০৩০ সালের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বৃহৎ উদ্যোগ

২০৩০ সালের মধ্যে বিপিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিশাল উদ্যোগ

বাংলাদেশের জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণ এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে সারাদেশে মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিজস্ব স্থাপনা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং অব্যবহৃত জমিতে গ্রিড-সংযুক্ত ছাদভিত্তিক (রুফটপ) ও মেগা সৌর ফটোভোলটাইক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি), সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্তকরণ করা হয়েছে।

দুই মেগা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট সৌর প্রকল্প: বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের সংযোগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

  • সোনাগাজী ২২২ মেগাওয়াট সৌর কেন্দ্র: ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি)। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটির উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে।

ছাদভিত্তিক (রুফটপ) ও মাঝারি প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ভবন ও খালি জায়গায় মোট ১৭টি ছোট-মাঝারি সৌর প্রকল্প স্থাপনে দুই বছর আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এর অধীনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র/প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্ষমতা (কিলোওয়াট-পিক) বর্তমান কার্যকারিতা
কাপ্তাই ইঞ্জিনিয়ারিং একাডেমি ১৭০ ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে উৎপাদনে
চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১৩০ চলতি বছরের জুনে চালু
রাজশাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১২০ চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সক্রিয়
খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্ট ২৬৮ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত

বিপিডিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোড়াশাল পাওয়ার স্টেশন (১,৩০০ কিলোওয়াট-পিক), শিকলবাহা পাওয়ার প্ল্যান্ট (৭৫০ কিলোওয়াট-পিক), চট্টগ্রাম পাওয়ার স্টেশন (৩৯০ কিলোওয়াট-পিক), কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (৩৩২ কিলোওয়াট-পিক) এবং সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন প্যানেল থেকে আরও ৪,১৯৫ কিলোওয়াট-পিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, অব্যবহৃত ছাদ ও পরিত্যক্ত জমি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্মিত এসব পরিবেশবান্ধব কেন্দ্র দেশের কার্বন নিঃসরণ কমাবে। পাশাপাশি নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে তা আমজনতাকেও নিজ নিজ ঘরের ছাদে সোলার প্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow