আট বছরেও শেষ হয়নি শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৫০ মিটার দীর্ঘ ‘শাহ আরেফিন-অদ্বৈত প্রভু মৈত্রী সেতু’র কাজ আট বছর ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। নির্ধারিত ৩০ মাসের মধ্যে যার নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রাকৃতিক দুর্ঘটনার কারণে আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সীমান্তবর্তী তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার লাখ লাখ মানুষের নদী পারাপারের স্বপ্ন এখন চরম দুর্ভোগ ও হতাশায় রূপ নিয়েছে।
তমা কনস্ট্রাকশন ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা থমকে আছে। বর্তমানে সেতুর সব পিলারের কাজ শেষ হলেও ১৫টি স্প্যানের মধ্যে ১২টি এবং ৭৫টি গার্ডারের মধ্যে ৬০টি স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গার্ডার নদীতে পড়ে যায় এবং চলতি বছরের ১৭ মে রাতে তীব্র ঝড়ে আরও পাঁচটি নির্মাণাধীন গার্ডার ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করলেও স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের যেসব অজুহাত দেখানো হচ্ছে, তা নির্ধারিত ৩০ মাসের মেয়াদ পার হওয়ার বহু পরের ঘটনা।
যাদুকাটা নদীর ওপর এই মৈত্রী সেতুটি নির্মিত হলে অঞ্চলের টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুল বাগান, বারিক টিলা এবং শহীদ সিরাজ লেকের মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ হতো। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও আগত পর্যটকদের।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডার ও বাকি কাজ সম্পন্ন করতে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে 'বাসেত প্রকৌশলী লিমিটেড' মনোনীত হলেও তাদের এখনো চূড়ান্ত ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক এই বিলম্বের কারণে সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন থমকে রয়েছে।
What's Your Reaction?