অর্থনীতির মন্দার মধ্যেও চাকরির বিজ্ঞাপনে হঠাৎ বড় উল্লম্ফন: চার মাসে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার সংকোচন, বেসরকারি বিনিয়োগে খরা এবং অধিকাংশ সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচক নেতিবাচক থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই দেশের চাকরির বাজারে বড় ধরনের নিয়োগের তথ্য সামনে এসেছে। অনলাইন জব পোর্টাল 'বিডিজবস'-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসের ব্যবধানে চাকরির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা প্রায় ৪৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির মন্দাভাবের মুখে চাকরির এই আকস্মিক বৃদ্ধিকে বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা বেশ 'বিস্ময়কর' এবং ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে শেষে বিডিজবসে সক্রিয় চাকরির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা ছিল ৬,৪০১টি, যা চার মাসের ব্যবধানে আগস্ট শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৯,৩৬৩টিতে। অর্থাৎ চার মাসে নতুন করে ২,৯৬২টি বিজ্ঞপ্তি যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মে থেকে জুন—মাত্র এক মাসেই বিজ্ঞাপন বেড়েছিল ৪৮.২ শতাংশ। পাশাপাশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও মে মাসের ২,৯৩৭টি থেকে বেড়ে আগস্টে ৪,১২৭টিতে উন্নীত হয়েছে, যা ৪০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অথচ গত ২০ মাসের গতিপথ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালজুড়ে এই সংখ্যায় চরম ওঠানামা বজায় ছিল এবং ২০২৫ সালের মার্চে তা কমে ৫,৭৪৬টিতে নেমে এসেছিল।
তবে চাকরির বাজারের এই গতিশীলতার সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্যমতে, চলতি বছর ক্ষমতা নেওয়া নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির মূল ৩১টি সূচকের মধ্যে ১৯টিরই অবনতি ঘটেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচে নামার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, জ্বালানি সংকট এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২১.৫৩ শতাংশে নেমে যাওয়ার মতো বড় সংকট তৈরি হয়েছে। এমনকি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহও ৪.১৭ শতাংশ কমেছে।
বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাশরুর এই বৈপরীতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, এটি মূলত নির্বাচন-পরবর্তী সাময়িক আশাবাদ ও নতুন ব্যবসা শুরুর প্রতিফলন। সাধারণত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকে। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলে তারা নতুন উদ্যোগ শুরু করে, যার ফলে বিডিজবসে বিজ্ঞপ্তি বাড়ছে। তবে পুরোনো এবং প্রতিষ্ঠিত বড় বড় কোম্পানিগুলো এখনো বড় পরিসরে নিয়োগে নামেনি; ফলে চাকরির এই উল্লম্ফনকে সার্বিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণাঙ্গ সূচক হিসেবে মন্তব্য করা যাবে না।
What's Your Reaction?