মেট্রো ও মনোরেলের সমন্বয়ে ঢাকা ও আশপাশের যোগাযোগে নতুন মহাপরিকল্পনা
ঢাকা ও এর চারপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে হালনাগাদকৃত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (ইউআরএসটিপি) এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মেট্রো ও মনোরেলের সমন্বয়ে তৈরি এই নতুন রূপরেখায় আগের ৫টি মেট্রোরেলের সাথে নতুন ৩টি যোগ করে মোট ৮টি এমআরটি রুট এবং ৭৯.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫টি মনোরেল করিডোর নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পর্যায়ক্রমিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ৭২.২ কিলোমিটার, ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৩৭.৮ কিলোমিটার এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে ২৬৮.৫ কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাবিত তিনটি মেট্রোরেল রুটের মধ্যে রয়েছে কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা থেকে কুড়িল পর্যন্ত এমআরটি-৩, গাজীপুরের তিতারকুল থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত এমআরটি-৭ এবং কেরানীগঞ্জের নিমতলী থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত এমআরটি-৮। পাশাপাশি 기존 রুটগুলোরও সম্প্রসারণ ও সংশোধন আনা হয়েছে; যার মধ্যে এমআরটি লাইন-১, গাবতলী থেকে ডেমরা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-২, কমলাপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৪ এবং বাডাইপাইল থেকে ভুলতা ও গাবতলী থেকে ভুলতা পর্যন্ত এমআরটি-৫ (নর্দান ও সাউদার্ন) রুট অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া বর্তমানে সচল এমআরটি লাইন-৬ দিয়াবাড়ী থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৭.৫ কিলোমিটার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অতিরিক্ত ৫ লাখ যাত্রী পরিবহনে ভূমিকা রাখবে।
মেট্রোরেলের পাশাপাশি যানজট নিরসনে পাঁচটি মনোরেল রুট সাজানো হয়েছে। এগুলো হলো শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জলসিঁড়ি (মনোরেল-১), বিমানবন্দর থেকে সাভার (মনোরেল-২), মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা (মনোরেল-৩), মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা (মনোরেল-৪) এবং রামপুরা থেকে ডেমরা (মনোরেল-৫)। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানিয়েছে, ইউআরএসটিপির (২০২৬-২০৪৫) অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব মনোরেল রুটের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), এবং তাদের ছয় মাসের সমীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুটি রুট চূড়ান্ত করা হবে।
What's Your Reaction?