গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন
গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার ভোর ৫টা থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। একই দিন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে টানা সাত মাস বন্ধ ছিল। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ত্রুটি মেরামতের পর ১৬ দিনের বিরতি শেষে গত ২৩ অক্টোবর উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যায় সার উৎপাদন। কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
কারখানা সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।
যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে। ফলে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকলে এসব অঞ্চলে সার সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে কারখানাটির লাভ হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও অন্যান্য ব্যয়ের পাশাপাশি শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখার জন্য গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সারসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের চাষাবাদ কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
What's Your Reaction?