মিয়ানমারের বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলা: নিহত ১৪, আহত অন্তত ২০

Aug 23, 2026 - 11:32
 0  5
মিয়ানমারের বৌদ্ধ বিহারে বিমান হামলা: নিহত ১৪, আহত অন্তত ২০

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার সংঘটিত এই হামলাটি ঘটে মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পশ্চিমে সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং টাউনশিপের স্বেল লে ওহ গ্রামে। মিয়াউং টাউনশিপের সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অর্গানাইজেশন (CDSOM)-এর মুখপাত্র নওয়ে উ জানান, একটি যুদ্ধবিমান গ্রামের বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে বোমা নিক্ষেপ করলে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী রয়েছেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৌদ্ধ উপবাসকাল উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ধর্মীয় সাধনায় অংশ নিতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিমানটি ১৫ মিনিটের ব্যবধানে গ্রামে দুটি বোমা ফেলে। তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে তাঁর শাশুড়িও রয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম এবং বিবিসির বার্মিজ সার্ভিস নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৪ জনের মধ্যে বলে উল্লেখ করেছে। তবে সামরিক সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে তারা দাবি করেছিল, তাদের বাহিনী কেবল বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায়।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার প্রায় সারাদেশজুড়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ দমন করার পর সামরিক শাসনের বিরোধিতাকারীদের অনেকেই অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বর্তমানে সরকারবিরোধী বাহিনীগুলো বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক সশস্ত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত, যাদের মধ্যে অনেকের অস্তিত্ব কয়েক দশকের পুরোনো।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এবং সাবেক স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই আটক রয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিলে তাঁকে কারাগার থেকে গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির প্রায় ৪২ শতাংশ এলাকা বর্তমানে প্রতিরোধ বাহিনী ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যেখানে সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ২১ শতাংশ।

মিয়াউং টাউনশিপ সাগাইং অঞ্চলে অবস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (IIMM) জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দেশটিতে বিমান হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় IIMM-এর প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী কেবল “সন্ত্রাসীদের” লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান পরিচালনা করে এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow