বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

Aug 17, 2026 - 14:59
 0  4
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট রাতারাতি বা স্বল্পসময়ে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে এবং আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংকটের দায় ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। তবে বর্তমান সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই, দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে কোনো কিছুরই সমাধান সম্ভব নয়, এমনকি এক বছরের মধ্যেও না। এটি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আমাদের অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।”

জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে তিনি জানান, সরকার নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

সঞ্চালন ঘাটতি ও সমন্বিত এনার্জি মিক্স

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে আমীর খসরু জানান, সরকার বর্তমানে একটি সমন্বিত 'এনার্জি মিক্স' বা জ্বালানি মিশ্রণ নীতি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এই নতুন পরিকল্পনায়:

  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি

  • গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ

  • কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন—সবকটি মাধ্যমকেই সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

যথাসময়ে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান ও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজস্ব খাতে আমূল পরিবর্তন: এনবিআর দুই ভাগে বিভক্ত হচ্ছে

রাজস্ব খাতের বড় ধরনের সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কর নীতি নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আর আমলাদের হাতে রাখা হবে না। এটি অর্পণ করা হবে একটি বিশেষজ্ঞ গ্রুপের ওপর।

এই লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি আলাদা ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে:

  1. নীতি নির্ধারণী সংস্থা: এটি কোনো আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হবে না, বরং বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরিচালিত একটি পৃথক গ্রুপ হবে।

  2. নীতি বাস্তবায়নকারী সংস্থা: রাজস্ব আদায় ও বাস্তবায়নের কাজ পরিচালনা করবে।

পাশাপাশি, পুরো করব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয় (Automated) করার দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কর রিটার্ন দাখিল, রিফান্ড পাওয়া এবং অন্যান্য সেবা পর্যায়ক্রমে অনলাইনে রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে করা সম্ভব হবে।

ডি-রেগুলেশন বা প্রশাসনিক জটিলতা দূরীকরণ

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রশাসনিক ও নীতিগত বাধা কমাতে সরকার যে ‘নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ’ (De-regulation) কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা তদারকি করতে ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এই টাস্কফোর্স।

কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য একটি ডেডিকেটেড ওয়েবসাইট তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টার বাজেট বক্তৃতার মধ্যে সাড়ে চার পৃষ্ঠাই রাখা হয়েছিল এই নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের ওপর, যা ব্যবসায়িক জটিলতা দূরীকরণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ। তবে দীর্ঘদিনের চেপে বসা প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়মকানুনের কারণে এসব সংস্কারের বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হবে বলে তিনি স্বীকার করেন। তা সত্ত্বেও সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow