মালিবাগে ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

Aug 23, 2026 - 11:55
 0  4
মালিবাগে ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

রাজধানীর মালিবাগে এক ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার দুপুরে মালিবাগের ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে ওই ব্যবসায়ীকে টানাহেঁচড়া করতে এবং একপর্যায়ে তার পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। একই সঙ্গে একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, ইসমাইলের পকেটে কে মাদক ঢুকিয়েছে, সেটি তদন্তের বিষয়। তবে তার কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের পর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসমাইলের পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ব্যবসা ও সামাজিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের নিচে পৌঁছানোর পর মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে ধরে রাখেন এবং তাদের মধ্যে একজন ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

এর আগে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। একই মার্কেটের ফ্ল্যাট মালিক জাবেদ রায়হান মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার জন্য দোয়ার আয়োজন করতে চাইলে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

ওই মামলায় ইসমাইল হোসেন ছাড়াও সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইসমাইলের বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। তার দাবি, একটি গোষ্ঠী জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। কমপ্লেক্সের অন্যরা একজোট হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পেরে না উঠে ওই পক্ষ ইসমাইলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুলালসহ কয়েকজন সরে গেলে মার্কেটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে একটি রাজনৈতিক দলের রমনা থানা এলাকার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও মার্কেট দখলের অভিযোগ ওঠে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন মিয়া বলেন, ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের সময় তার শরীর তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পকেটে মাদক ঢুকিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow