গ্যাস সংকটে স্থবির বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত
দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার কারখানা পরিচালনায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২৯ শতাংশ এবং সার কারখানাগুলোতে ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে, যার ফলে শিল্প কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক সংলাপে জানায়, পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী ২০৩৪ সাল পর্যন্ত দেশে গ্যাসের এই বড় ঘাটতি বহাল থাকবে। অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সৃষ্ট এই সংকট উত্তরণে সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে ১০ বছরমেয়াদি সমন্বিত নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক এই সংলাপে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ৮৪ শতাংশই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৪.৫ শতাংশ। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ সতর্ক করে বলেন, উৎপাদনে ধস নামায় তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে উদ্যোক্তা সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর জানান, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পেয়ে কারখানায় বিকল্প হিসেবে ডিজেলের ব্যবহার ৩৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল (ল্যান্ডবেজড টার্মিনাল) নির্মাণ এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন দীর্ঘদিন সঠিক মূল্যনীতি না থাকা ও সিস্টেম লসকে এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, বাজারে সুশাসনের অভাব ও সঠিক ভর্তুকি নীতির অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে শিল্প ও কৃষিতে গতি ফেরাতে সরকারকে দ্রুত দৃশ্যমান সংস্কার ও বাজারভিত্তিক টেকসই পদক্ষেপে জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
What's Your Reaction?